দ্বীপের শহর ভিক্টোরিয়ায়…

মে মাসে দিল্লীর প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে বাঁচতে আমরা কত্তা-গিন্নী এবার পাড়ি দিয়েছি সুদূর ক্যানাডায়  – মূল কারণটি অবশ্য অন্য, আমাদের কন্যার মাস্টার অফ সায়েন্স (MS) ডিগ্রী পাওয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমাদের নিমন্ত্রণ ! তবে রথ দেখার সঙ্গে কলা না বেচলে হয় ? সমাবর্তন তো আছেই, এছাড়া কাছাকাছি নানা জায়গায় ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা শুরু হল জোর কদমে, কন্যার সঙ্গে ই-মেল ও হোয়াটসএ্যাপ-এর মাধ্যমে । বেশ কম সময়েই পরিকল্পনার সিংহভাগই সেরে ফেললো আমাদের কন্যা ।

অতঃপর এক শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমরা রওয়ানা দিলাম ক্যানাডার উদ্দ্যেশ্যে । আমাদের গন্তব্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন্দর-শহর ভ্যাঙ্কুভার (Vancouver) । চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের বিমান প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর আমাদের পৌঁছে দিল সাংহাই, সেখানে ঘন্টা দুয়েকের বিরতি – এরপর আর এক উড়ানে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করে প্রায় ১২ ঘন্টার সফর শেষে আমরা পৌঁছলাম ভ্যাঙ্কুভার । সেখানে তখন শনিবারের এক ঝকঝকে সকাল, ১৯ ঘন্টায় আমরা পেরিয়ে এসেছি ১১,০০০ কিমি’র বেশী পথ, আমাদের ঘড়ি পিছিয়ে গেছে সাড়ে বারো ঘন্টা ! ‘জেট ল্যাগের’ সমস্যাটা সেরকম কিন্তু বাড়াবাড়ি মনে হল’না – দুপুরে একটু বিশ্রাম নিয়েই আমরা বেশ তরতাজা !

রাণী ভিক্টোরিয়া তাঁর শাসনকালে (১৮৩৭–১৯০১) যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ক্যানাডিয়ান কনফেডারেশন তৈরি করে বিভিন্ন প্রদেশগুলির কনফেডারেশনে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট ছিলেন, তাঁরই প্রচেষ্টায় সব প্রদেশগুলি একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় আজকের বিশাল দেশ ক্যানাডা । ক্যানাডার ইতিহাসে এই অবদানের জন্য সে দেশে তাঁকে বিশেষ সম্ভ্রমের চোখে দেখা হয় । রাণী ভিক্টোরিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে মে মাসে ২৫ তারিখের আগে শেষ সোমবারটি পালিত হয় ‘ভিক্টোরিয়া ডে’ হিসাবে – সারা ক্যানাডা জুড়ে তিনদিনের ছুটির ‘লং উইকএন্ড’!  এবছর ২০ – ২২শে মে ছিল লং উইকএন্ড – আমরা পৌঁছেছি ২০শে মে, কন্যার আরো দু’দিন ছুটি বাকি । তাই ২১শে মে প্রায় ভোর ছটায় আমরা তিনজনে বেরিয়ে পড়ি ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের রাজধানী, ‘ভিক্টোরিয়া’র দিকে ।

মানচিত্র একটু ঘাঁটলেই বোঝা যাবে, ক্যানাডার মূল ভূখন্ডে ভ্যাঙ্কুভার শহরের পশ্চিমে বিশালাকায় ‘ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপ’ – সে দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে বন্দর, Swartz Bay, এরপর স্থলপথে  যেতে হবে ভিক্টোরিয়া । আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাস ধরে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাই West 41st. Avenue ও Cambie Street-এর জংশনে SkyTrain ষ্টেশনে – পুরোপুরি স্বয়ংচালিত মেট্রো ট্রেনে নেই কোনও ড্রাইভারের অস্তিত্ব ! আমরা নেমে পড়ি Bridgeport ষ্টেশনে, সেখান থেকে দুই কোচ বিশিষ্ট বাসে প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমরা পৌঁছই, Tsawwassen Bay । এটি সমুদ্রের ধারে এক সুন্দর জাহাজঘাটা, সেখান থেকে সময়সারণী অনুযায়ী ফেরী ছাড়ছে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দ্যেশ্যে ।

‘Self service’ kiosk থেকে তিনটি টিকিট নিয়ে আমরা প্রবেশ করি ভিক্টোরিয়াগামী জাহাজে, জাহাজটির নির্মাণ শৈলী যথেষ্ট উন্নতমানের ও অভ্যন্তর বেশ সুন্দর – বাতানুকূল পরিবেশ, বড় বড় কাঁচের জানালার পাশে আরামদায়ক বসার জায়গা । জাহাজে শুধু ট্যুরিস্টদের ভীড়, সপ্তাহান্তের মজা আহরণে দলে দলে সবাই চলেছে ভিক্টোরিয়া । কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজ ছেড়ে দিলে, আমরা প্রাতরাশের খোঁজে নীচের ডেকে ক্যাফেটারিয়াতে লাইনে দাঁড়াই । ফলের রস, টোস্টেড ব্রেড, স্ক্র্যাম্বল্ড এগস, এগ বেনেডিক্ট, সসেজ ও কফি দিয়ে বেশ পরিপাটি করেই সাঙ্গ হয় আমাদের প্রাতরাশ ! আমাদের জাহাজ পাহাড়সারির মধ্যে খাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আদিগন্ত সমুদ্রে ভাসে, চারিপাশে অনেক পাহাড়, আমরা পেরিয়ে আসি ছোট দ্বীপ, পালতোলা ও মোটর চালিত নৌকা, অন্য দিকে থেকে আসা ফেরী; আমাদের সঙ্গী  হয় কর্কশ চিৎকাররত সী গালের দল খাবারের আশায় । দেখতে দেখতে কেটে যায় দেড় ঘন্টা সময়, আমাদের জাহাজ পৌঁছয় ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে Swartz Bay ফেরী টার্মিনাল ।

Swartz Bay থেকে ভিক্টোরিয়া প্রায় ৩২ কিমি দূরে – একটি ডাবল ডেকার বাসে ওপর তলায় সীট পাই আমরা । আমাদের বাস ধীরে এগিয়ে চলে – পথে পড়ে ফার, স্প্রুস, সেডার, ওক ও মেপল-এর জঙ্গল; সুউচ্চ, প্রাচীন চিরহরিৎ বৃক্ষের সমাবেশ, কুলকুল করে বয়ে চলা ছোট নদী, ছোট-বড় শান্ত জলাশয়, ঘন সবুজ ঘাসের কার্পেট বিছানো উঁচু নিচু ময়দান, সেখানে জাবর কাটতে ব্যস্ত অলস গাভীর দল । পেরিয়ে আসি ছবির মত সুন্দর ঘরবাড়ি নিয়ে ছোট ছোট শহর, স্কুল, দোকানপাট, পাব ও রেস্তোরাঁ । আমাদের বাস চলে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে – রাস্তার ধারে সমুদ্রমুখি প্রাসাদোপম বাড়ি ।

আমাদের বাস প্রবেশ করে ভিক্টোরিয়া শহরে – সমুদ্রের তীরে সাজানো অতি সুন্দর শহর, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র বিশেষ । শহরে নানা মাপের ও দামের অসংখ্য হোটেল আর রাস্তায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকের ঢল । ডাউনটাউন ছাড়িয়ে এসে আমাদের বাস থামে, বাস থেকে নেমেই চোখে পড়ে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিধানসভা – ১৮৯৮ সালে ফরাসী ‘বারোক’ শিল্পশৈলীতে নির্মিত সে এক সুবিশাল প্রাসাদপুরী । শহরের প্রাণকেন্দ্রে তার অবস্থিতি, সামনে সুবিস্তৃত সবুজ মাঠে রানী ভিক্টোরিয়ার বিরাট ধাতব প্রতিমূর্তি । তার অনতিদূরেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এবং কোরিয়ান যুদ্ধে শহীদ ক্যানাডিয়ান সেনাদের স্মারক । বিধানসভার পাশ দিয়ে হেঁটে এগোই আমরা ভিক্টোরিয়ায় আস্তানার খোঁজে ।

ইন্টারনেটে খুঁজে পেতে আমাদের কন্যা, Albion Manor নামে Bed & Breakfast-এ একরাত্রির জন্য অগ্রিম বুকিং করে রেখেছিল । মিনিট দশেক হেঁটে Albion Manor-এ পৌঁছে আমরা অবাক –১৮৯২ সালে তৈরি সেটি নগরনিগম দ্বারা স্বীকৃত এক ঐতিহ্যশালী ভবন বিশেষ ! বাড়িটির চারপাশে বাগান অনেক রঙিন ফুলে সুশোভিত,  বাগানে এক কৃত্রিম ফোয়ারা ও প্রস্তরমূর্তি । বাড়িটিতে থাকার জায়গা সীমিত, সব মিলিয়ে নয়টি ঘর ও স্যুট – ঘরগুলি নম্বর নয়, বিভিন্ন নামে নামাঙ্কিত । আমাদের জন্য বুক করে রাখা ঘরটির নাম, ‘অস্কার ওয়াইল্ড’ ! আমাদের ঘরে কাঠের মেঝে, পুরানো দিনের কাঠের কাজ করা একটি কিং সাইজ খাট, সমস্ত আসবাবপত্র উনবিংশ শতাব্দীর ডিজাইনে তৈরি । বিছানা, গদী, লেপ-কম্বল, তোয়ালে সবই উচ্চ মানের । বাথটব ও অন্যান্য উঁচুদরের ফিটিংস সমেত বাথরুমটিও অতি চমৎকার । Albion Manor-এ অ্যান্টিক শিল্প ও চিত্রকলার ছড়াছড়ি – বিশ্বের নানা জায়গা থেকে সংগৃহীত ধাতু, সিরামিক আর পাথরের কারুকাজের হস্তশিল্প ।

ঘরে জিনিসপত্র রেখে একটু জিরিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়ি ভিক্টোরিয়ার রাস্তায়, পৌঁছে যাই বিধানসভার সামনের মাঠে । সেখানে তখন ‘ভিক্টোরিয়া ডে’ উপলক্ষ্যে উৎসবের মেজাজ – নানান স্কুল, কলেজ থেকে আসা পড়ুয়াদের ব্যান্ডবাদ্যের আসর, ১০-১৫ জনের দলের বাদ্যসঙ্গীত পরিবেশন আর তাদের উৎসাহ যোগাতে অনেক স্থানীয় অধিবাসী ও ভ্রমণার্থীদের সমাগম । বিধানসভার ভিতরে বিনামূল্যে গাইডেড গ্রুপ ট্যুর-এর ব্যবস্থা আছে, দুপুর সাড়ে তিন’টের ট্যুর-এর টিকিট সংগ্রহ করে আমরা মধ্যাহ্নভোজনের উদ্দ্যেশে পা চালাই । বিধানসভার সামনে মাঠ পেরোলেই চওড়া রাস্তা, সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে । আর সেখানেই ভিক্টোরিয়া হারবার – নানা সাইজের yacht, পালতোলা নৌকা ও সী-প্লেনের ভীড় । হারবারের ধারে প্রমেনাড যেন এক মেলা প্রাঙ্গণ – অনেক শিল্পী সাজিয়ে বসেছে তাদের আঁকা ছবি ও হস্তশিল্পের পশরা নিয়ে, কেউ দেখায় ম্যাজিকের খেলা, কেউবা বিরাট উঁচু একচাকার সাইকেল নিয়ে কসরত দেখায় ! হারবার সংলগ্ন বেশ কিছু রেস্তোরাঁ, সবাই দেখি সীফুড পরিবেশনে সিদ্ধহস্ত !      

সমুদ্রের ওপর জেটিতে এক রেস্তোরাঁয় ফ্রায়েড স্কুইড, clam chowder soup ও ফিশ অ্যান্ড চিপস দিয়ে সমাধা হয় আমাদের মধ্যাহ্নভোজন । আমাদের রেস্তোরাঁর সামনে সমুদ্রে একের পর এক ওঠানামা করে সী-প্লেন, যাত্রীদের নিয়ে উড়ে যায় কাছের দ্বীপে ও ভ্যাঙ্কুভারে; আধঘন্টার জন্য ভিক্টোরিয়ার আকাশে কয়েক চক্করের ‘জয় রাইড’-এও সওয়ার হ’ন কেউ কেউ !

সাড়ে তিন’টের সময় বিধানসভায় ঢুকে পড়ি আমরা – ইউনিভার্সিটি অফ ভিক্টোরিয়ার স্নাতক স্তরের এক ছাত্রী আমাদের ঘুরিয়ে দেখায় বিধানসভা ও অধিবেশন কক্ষ, যত্ন সহকারে বোঝায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ইতিহাস, নির্বাচন পদ্ধতি, বিভিন্ন স্মারক । আমরা ভারত থেকে এসেছি শুনে মেয়েটি বলে সে ভারতে আসতে খুবই আগ্রহী !

ক্যনাডায় গরমকালে সূর্য ডোবে ন’টার পর, প্রায় রাত সাড়ে ন’টা অবধি বাইরে বেশ আলো – আটটা নাগাদ আমরা নৈশাহারের সন্ধানে পৌঁছে যাই, Fisherman’s Wharfসেখানে জেটির দু’ধারে সুন্দর দোতলা সব আধুনিক বাড়ি, সবগুলি বাড়িই জলে ভাসমান । জেটির এক দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ আর অন্য দিকে সার সার Yacht ও মোটরচালিত নৌকা নোঙর করা । দেখি জেটির কাছে দু’টি সীল সাঁতরে বেড়ায়, ট্যুরিস্টদের প্রায় হাত থেকে মাছ খেয়ে যায় তারা – জেটিতে সবাই ভীড় করে তাদের এহেন কসরত দেখে !

পরদিন সকালে Albion Manorএর ডাইনিং হ’লে বারোটি আসন বিশিষ্ট এক বিরাট টেবিলে আমাদের প্রাতরাশের ব্যবস্থা । সেখানে অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয় – অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন এক বয়স্ক দম্পতি, আমেরিকার Salt Lake City থেকে এসেছেন আরও দুই দম্পতি, দুই মহিলা বন্ধু এসেছেন আমাদের মত ভ্যাঙ্কুভার শহর থেকে । কমলালেবুর রস, দু-তিন রকমের ফল, ব্লু-বেরী প্যানকেক, সসেজ ও কফি দিয়ে ভরপেট প্রাতরাশ সেরে আমরা বেরিয়ে পড়ি ভিক্টোরিয়ার এক বিশেষ দ্রষ্টব্য, Craigdarroch Castle দেখতে ।

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি Robert Dunsmuir নামে এক স্কটিশ ভাগ্যান্বেষী কয়লা খনিতে কাজ নিয়ে ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে এসে পৌঁছান । পরবর্তী কালে ভিক্টোরিয়ার উত্তরে Nanaimo শহরের কাছে তিনি এক কয়লা খনির মালিক হ’ন ও কয়লার ব্যবসায়ে প্রচুর ধন-সম্পত্তি উপার্জন করেন । ১৮৮৭-১৮৯০ সালে Robert Dunsmuir নির্মাণ করেন Craigdarroch Castle, কিন্তু ১৮৮৯ সালে মৃত্যুর জন্য ঐ প্রাসাদে বাস করার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর । Dunsmuir-এর বিধবা পত্নী, Joan Olive, তাঁদের তিন অবিবাহিতা কন্যা ও দুই অনাথ নাতি-নাতনী নিয়ে ঐ প্রাসাদে বাস করতে আসেন ১৮৯০ সালে, বসবাস করেন ১৯০৮ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত ।  উনবিংশ শতাব্দীতে উত্তর আমেরিকার ধনীজন নির্মিত প্রাসাদগুলির ধনাঢ্য আড়ম্বরের অন্যতম Craigdarroch Castle । প্রায় দুই একর জমিতে ২৫,০০০ স্কোয়ার ফুট আয়তনে ৩৯ টি কামরা নিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাসাদটি বেশ সম্ভ্রমের উদ্রেক করে ! মাথাপিছু ১৪.২৫ ক্যানাডিয়ান ডলার দিয়ে টিকিট কেটে প্রাসাদে প্রবেশ করি আমরা । সুদূর স্পেন, Chicago, Hawaii-থেকে আমদানি করা আখরোট, মেপল, রেড সেডার, রোজঊড, চেরী, ওক ইত্যাদি কাঠ দিয়ে তৈরি প্রাসাদের বিভিন্ন অংশ ও আসবাবপত্র । প্রাসাদের জানালায় রঙিন কাঁচের (stained glass) কারুকাজ দেখার মত ! অভ্যাগত ও পরিবারের সদস্যদের বসার ঘর, ব্যাঙ্কোয়েট হ’ল, একান্ত ডাইনিং হ’ল, বিভিন্ন সদস্যের শয়নকক্ষ ও তাদের আড়ম্বরের বাহুল্য সবই ঊনবিংশ শতাব্দীর ভিক্টোরিয়ান জমানার – সব ঘরেই বহুমূল্য অ্যান্টিক ও চিত্রকলার নিদর্শন ! এহেন প্রাসাদে আমাদের ঘড়ির কাঁটাও যায় যেন থেমে, কেটে যায় দুঘণ্টারও বেশী সময় ।

প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে বাস ধরে আমরা পৌঁছই ভিক্টোরিয়ার ডাউনটাউন – এক ইতালিয়ান রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজন সেরে আমরা গিয়েছি ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে James Bay-তে, সমুদ্রতীর বেয়ে চলেছে রাস্তা । রাস্তা সংলগ্ন প্রমেনাড ধরে হেঁটে যাই আমরা, সমুদ্র সেখানে অপ্রশস্ত, খাঁড়ির অপরপ্রান্তে দেখতে পাই আমেরিকার ওয়াশিংটন প্রদেশে অলিম্পিক পর্বতমালা – তার চূড়োয় রূপোলি বরফের উজ্জ্বল মুকুট ! আমার ক্যামেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে অনুপম নিসর্গকে ধরে রাখতে ।

অবশেষে ভিক্টোরিয়ার মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসি আমরা; ফিরতি পথে Swartz Bay থেকে ভ্যাঙ্কুভারের ফেরীতে উঠি, জাহাজে কাঁচের দেওয়াল ঘেরা ডাইনিং হলে বসে ডিনারের সাথে অবলোকন করি প্রকৃতির আর এক বর্ণময় রূপ  – স্বর্ণালী সন্ধ্যার শেষে সুয্যিমামার ঘুমের দেশে পাড়ি ।

[মাতৃমন্দির সংবাদ, নিউ দিল্লী, জুলাই ২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত]

Advertisements