Bidding Adieu…

Today (December 29) is my last working day in TIFAC…after working for 27 years 8 months and 27 days in TIFAC, I would be superannuating on December 31, 2017!
It’s been a highly fulfilling and satisfying journey, which shaped me into a person, who I hope you all will care to remember with joy. 
I had the great fortune to work with the stalwarts in science & technology namely Dr Y S Rajan, Dr V S Ramamurthyand Dr APJ Abdul Kalam to name just a few… I was appointed as the Mission Director of Advanced Composites Mission by none other than Dr Kalam, when he was the Chairman-TIFAC. I would forever be grateful to Dr Rajan, who truly scripted the saga of my professional success. Not only for official work, on the personal front too I was blessed by and immensely benefitted from my close association with the kind-hearted and sharp-witted Dr Rajan, the first Executive Director of TIFAC. I’m indebted to him in many ways in life… At this hour of hanging my boots, I sincerely hope that I could live up to his expectations!
At this momentous juncture, I especially remember my junior colleagues, almost all of whom had joined starry-eyed and fresh after graduating from their respective institutions… I mentored them, guided them and initiated them into the wonders of new materials, nuances of chemical engineering and challenges of project management… hours, which rolled into days and years spent with them honed them into performing professionals, independent decision makers and worthy officers… on the personal front, they got married, owned houses and had kids, who would soon be finishing their schools…I would miss you all! 
On my personal front, I had the kids, who were born after I had joined TIFAC.  Our undisturbed stay in Delhi has truly enabled them find the moorings in their lives.They have grown into professionals in their own rights. Also, the major part of my stay in a gated green enclave of South Delhi, thanks to the Govt. accommodation, has squarely added to my family’s creature comforts. TIFAC has sent me to far-flung corners of this country and distant shores of the world on work thus enriching my worldview. 
The long innings in TIFAC studded with several projects, programmes, too many travels across the country and many abroad now appears like a haze… it went off rather too soon…
For my seniors, colleagues, associates and several others from TIFAC, DST and outside, I would like to be pardoned for if I had inadvertently hurt their feelings anytime.
While wishing you the best of times yet to come, I would like to say ‘bye’ and love to be in touch whenever you care to contact.
Best wishes & regards,
Soumitra Biswas

Mumbai Musings…


The first week after retirement went off in a jiffy… attending the TIFAC farewell, pushed back for better attendance as compared to the last week of the year, applying for the lifelong health-card from the Govt. and slowly getting adjusted to the ‘no rush’ lifestyle! As the week had ended, I left foggy and bone chilling Delhi for more agreeable climes of Mumbai…

Mumbai is at its best in January… a mellowed sun lazily waking up at 8 o’clock and cool sea breeze wafting across with a great respite from sweaty and muggy stereotype weather of the maximum city! Some casual shopping at High Street Phoenix mall followed by a sumptuous lunch at Shizusan, a trendy Chinese eatery and topped with an evening visit to ‘Hunaar Haat’, a huge exhibition of handicraft-cum-fair of Awadhi food right on the grand Marine Drive ended a delightful Sunday!

For a lunch invite from a long-lost friend from my school and IIT (contacts re-established for the last few years through e-mail & WhatsApp though), I travelled to JVLR (Jogeshwari-Vikhroli Link Road for the uninitiated) and navigated through the directions to his swanky apartment on the tenth floor for a journey down the memory lane… meeting Tapan De (B.Tech/Aeronautical Engg/’79; M.Tech/Aero/’80 and now retired from Air India) and his beautiful family: wife– Deepanwita, son– Anirban & daughter– Pradeepta with great conversations accompanied with an incessant supply of food marked a memorable Monday…

After spending several years in the distant shores of Oman, Sharjah, Abu Dhabi, Libya…our good friend, Saswata Gupta (B.Tech/Agri Engg/’79/Nehru) had resurfaced in Delhi, where we had bumped into each other a few times. As he was recently relocated to Mumbai sans his family, we had promptly set up a luncheon date on Wednesday. Washing down platefuls of Bombay Ducks (Bombil in local parlance), mussels, Calamari and baby sharks with pints of Kingfisher at ‘Gajalee’, the famed seafood outlet at Lower Parel, we relived our Kgp days in right earnest…

And icing on the cake for this visit has been our discovery of the ‘Mecca’ of a market for fish, our quintessential ingredient of spiritual living! Ishwar, the chauffeur of Bulbul’s official car has been quite an encyclopaedia with nuggets of wisdom on mundane matters. On his suggestion that we should once try our luck with the fish et al at the municipal market near Grant Road station, yesterday evening we ambled into a bustling place of business, a close cousin of our own Haatibagan or Maniktala. A few steps into the market…Lo and behold! We were among the fishes and fisherwomen frantically trying to attract our attention. Forget the salt water varieties, with a veritable display of fishes appealing to typical Bengali palate namely, Rohu, Carp, Mullet (পার্শে in Bangla), Indian salmon (locally known as Rawas and গুরজাউলি in Bangla) apart from prawns and Pomfrets aplenty, the fish market cast a spell on us. We quickly struck a deal for two types of fishes from a fisherwoman, who insisted on sharing her mobile number with Bulbul stating that the need for any special variety of fish (Hilsa included) could be catered to with 24 hours’ advance notice! We returned home with our souls soaked in happiness of discovering a very large pot of gold!







বেশ ফর্সা রং, টিকোলো নাক আর পান পাতার মত মুখ মেয়েটার – সে আমাদের কবিতা, তার এক দিদি ও মা-বাবা, সন্ধ্যা ও অজিত নায়েকের সঙ্গে আমাদের সারভেন্ট কোয়াটার্সে থাকে সে । আমাদের ব্লকেই পাঁচতলার সারভেন্ট কোয়াটার্সে থাকে তার মামা-মামী ও দিদিমা । ওপরতলা থেকে দুদ্দাড় করে নীচে নামার সময় আচমকা আমার সামনে পড়ে যায় সে কখনও কখনও, সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত তুলে বলে, ‘নমস্তে’ ! আমিও মৃদু হেসে তাকে প্রতিনমস্কার জানাই । আমাদের নিবেদিতা কুঞ্জের খুব কাছেই আর কে পুরম সেক্টর ছয়ের সরকারি সর্বোদয় স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ে কবিতা, সকাল সওয়া সাতটায় মা’র হাত ধরে স্কুলে বেরিয়ে যায় সে । আর সাড়ে সাতটা বাজলেই তাদের স্কুল থেকে ভেসে আসে সমবেত কন্ঠে প্রার্থনা সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম…’ দেড়টা নাগাদ তার স্কুল ছুটি হয়, দুপুরে আবার আমাদের ব্লকে এক ম্যাডামের কাছে পড়তে যায় রোজ কবিতা । ম্যাডাম তাকে অঙ্ক, হিন্দী, ইংরাজি পড়ান; ইন্টারনেট ঘেঁটে তার হোমওয়ার্ক-এর জন্য নানা দেশের জাতীয় পতাকা, মুদ্রা এসব খুঁজে দেন, কবিতা তার প্রিন্ট নিয়ে বেশ সুন্দর চার্ট তৈরি করে । একগাল হেসে কবিতা আমাকে দেখায় সে চার্ট – আমি, ‘বাঃ, বেশ হয়েছে’ বললে সে খুব খুশী !

তার দুই মামাতো ভাই-বোন ছাড়াও অনেক বন্ধু কবিতা’র – তাদের সঙ্গে নানারকম খেলায় বিকেলটা বেশ হৈ হৈ করেই কাটে কবিতার ।  আমি তার মা সন্ধ্যাকে কোনও কোনও দিন একটা কলা বা আপেল দিয়ে বলি, ‘কবিতাকে দিও’ । ম্যাগি’র নুডলস খেতে ভালোবাসে মেয়েটা, বাড়ির মাসকাবারি বাজারের সময় তার জন্য চার-পাঁচটা ম্যাগির প্যাকেট নিয়ে আসি আমি আর পাঁউরুটিতে লাগানোর জেলি । অফিস ফেরত নিয়ে আসি কোনও দিন এক চকলেটের বার, কবিতাকে দিলে উজ্জ্বল হাসিতে মুখটা ভরিয়ে বলে, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ – ভারী ভালো লাগে আমার ।  মাঝে মাঝে কবিতার জন্য পিৎজা অর্ডার দিই, তার সাধের খাবার পেয়ে আনন্দে নাচানাচি করতে থাকে মেয়েটা । কয়েকদিন আগেই তার এগারো বছর পূর্ণ হ’ল, সন্ধ্যা বলে, ‘আজ কবিতা’র জন্মদিন’ । আমি জিগ্যেস করি, ‘তা, কেক কাটা হবে তো? সে বলে, ‘হ্যাঁ সাব, সেক্টর ছয়ের মার্কেটে কেকের অর্ডার দিয়েছি’ । আমি তাকে পাঁচশো টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলি, ‘কেকের দামটা এর থেকে দিয়ে দিও’ । জন্মদিনের সন্ধ্যায় নতুন জামা পরে এক প্লেট কেক দিয়ে যায় কবিতা, ‘এটা তুমি খেও’ – তার আনন্দে সামিল হতে পেরে মনটা খুশীতে ভরে যায় আমার ।

দুই মেয়ের মধ্যে বেশ ভালো দেখতে বলে কবিতার প্রতি যেন এক প্রচ্ছন্ন আস্কারা আছে তার মা-বাবা’র –  দেওয়ালিতে একটু বেশী দামের জমকালো পোষাক আসে কবিতা’র জন্য, তার বায়নার খাবার-দাবার চলে আসে চটপট, তার জন্মদিনের আয়োজন হয় ঘটা করে – বুঝতে পারি আমি সবই । আমি ও আমার স্ত্রী তার মা’কে বোঝাই, ‘দ্যাখ, এক মেয়ের জন্য এরকম একপেশে মনোভাব দেখিও না, সাধ্যের বাইরে গিয়ে বায়নাক্কার যোগান দিও না’ ।

আমার অবসর গ্রহণের দিন এসে গেল প্রায়, আর কিছুমাস পর ছেড়ে দিতে হবে নিবেদিতা কুঞ্জের এই সরকারি কোয়াটার্স । সরকারি নিয়মে সারভেন্ট কোয়াটার্সও খালি করে দিতে হবে কবিতা’র মা-বাবাকে । হয়ত এই ব্লকেই বা কাছাকাছি কোথাও সারভেন্ট কোয়াটার্সে পেয়ে যাবে তারা আস্তানা । কবিতা বড় হয়ে যাবে, খিলখিলে হাসির ছটফটে কিশোরী ফুল্ল কুসুমিত এক তন্বী হয়ে উঠবে কালের নিয়মে । এ শহর ছেড়েই চলে যাবো আমি, তার সঙ্গে আর দেখা হবে কি?


অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিনিয়র সিটিজেনের তকমাটা পাকাপাকি ভাবে এঁটে বসবে গায়ে, তবে আশার কথা শুনছি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ঠিক করেছে যে ৭৫ বছর বয়স না হ’লে নাকি কাউকে বৃদ্ধ বলা হ’বে না ! সে যাই হোক, শীঘ্রই মাস মাইনে বন্ধ হয়ে পেনশন চালু হবে – পেনশনার কথাটা’র মধ্যে কোথাও একটা সামান্য শ্লেষ লুকিয়ে থাকে যেন, ‘দেখ, লোকটা কেমন সরকারের পয়সায় বসে বসে খাচ্ছে…’ সকাল ন’টার মধ্যে তৈরী হয়ে অফিস যাওয়ার তাগিদটা থাকবে না আর । জুনিয়র সহকর্মীরা আর এগিয়ে এসে বলবে না, ‘গুডমর্নিং স্যার, কেমন আছেন ?’, কেউ কেউ আবার আমার তোলা ছবি ও লেখার ভক্ত, কোনও জায়গায় বেড়াতে গেলেই তারা বলে, ‘ছবি কবে দেখতে পাবো? আর ট্র্যাভেলগ?’ পাঁচতলায় আমার অফিসের বিরাট কাঁচের জানালা থেকে উদাত্ত আকাশ, দক্ষিণ দিল্লীর শ্যামলিমা, দূরে কুতুব মিনারের চূড়ো আর ধীর গতিতে এয়ারপোর্টের দিকে এগিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজ – এদের কিন্তু বড়ই মিস করবো আমি !

কিছুদিন বাদে কোনও মিটিঙে জোরালো বক্তব্য রাখতে হবেনা আর, কোট-টাই পরে চমক লাগানো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার প্রয়োজনও ফুরোবে তখন । সরকারি চাকরিতে ‘ইঁদুর দৌড়’ ছিল না ঠিকই, কিন্তু দৌড়টা ছিল ভালো রকমই । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আর ছুটে বেড়াতে হবে’না নানা কাজে – দেশটাকে চষে ফেলা ‘পায়ের তলায় সর্ষে’তে অভ্যস্ত আমি হয়ত একটু মুষড়ে পড়ব তখন ।

বুঝতেই পারছি ধীরে চলার সময় এসেছে কাছে, বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা বাস আর ছুটে গিয়ে ধরতে ইচ্ছে করেনা, মনে হয় কি হবে তাড়াতাড়ি করে, পরের বাসটা ধরব না হয় । আর মনটা যেন আগের থেকে অনেক বেশী উদার হয়ে গেছে, রেস্তোরাঁয় বিল চুকিয়ে ১০০-২০০ টাকা টিপস দিয়ে দিই অনায়াসেই, অফিসের ড্রাইভারকে একটু দেরীতে ছাড়লে খুব সহজেই ১০০ টাকা দিয়ে বলি, ‘কিছু খেয়ে নিও ভাই’ । কেউ খারাপ ব্যবহার করলে প্রতিবাদ করি না চেঁচামেচি করে, মুচকি হেসে সরে যাই । অন্যের অনেক অন্যায়ই ক্ষমা করে দিই হাসিমুখে, আগের মত তার ভুল প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগিনা আর ।

ভালো লাগে, খুব ভালো লাগে আমার পরবর্তী প্রজন্মকে – আমার সব ঝকঝকে ভাইপো-ভাইঝি, ভাগ্নে-ভাগ্নী, আমার বন্ধুদের ছেলে-মেয়েরা, ছেলে-মেয়ে’র বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে ফেসবুকের দৌলতে যোগাযোগ বেশ নিয়মিত, তাদের দেখে নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে । তাদের আশা-আকাঙ্খা, সাফল্য, জীবনের বিভিন্ন মাইলফলক বড় আনন্দ দেয় আমায়, কত কিছুই যে শেখার আছে তাদের কাছ থেকে… বেশ কয়েকজন আবার মজার কমেন্ট লেখে আমার পোস্ট করা ছবিতে বা লেখায়, খুশীতে মনটা ভরে ওঠে !

অনেকেই বলেন রিটায়ারমেন্টের পর খুব ঘুরে বেড়াবেন আপনারা । আমি অবসর নিলেও স্ত্রী’র চাকরি এখনও বেশ কিছুদিন বাকি; পদোন্নতির সঙ্গে তার দায়িত্বও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । তার ছুটিছাটার ব্যাপারটা মাথায় রেখে তবেই না ঘোরাঘুরি । আর সেই বিখ্যাত প্রবাদ – সময়, সঙ্গতি আর দৈহিক ক্ষমতার চিরাচরিত সংঘাত । কম বয়সে সময় ছিল, ক্ষমতা ছিল কিন্তু সঙ্গতি ছিলনা, মাঝ বয়সে সঙ্গতি হয়ত ছিল, ক্ষমতাও ছিল কিন্তু সময় ছিলনা একদম আর এখন সঙ্গতি আছে, সময়ও আছে অফুরাণ কিন্তু ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ! একটা ‘Bucket List’ তৈরি আছে আমার, সব সময়ে কাছেই থাকে সেটি – স্বপ্নে ও টিভি’র ট্র্যাভেল চ্যানেলে ভেসে যাই দেশ-দেশান্তরে । কিন্তু স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হ’বে, সে হিসেবের ছক কষে রেখেছেন স্বয়ং বিধাতা ।

জন্মালে যেমন একদিন মরতে হবে’ই, কালের নিয়মে অবসর গ্রহণও তাই অবশ্যম্ভাবী । ব্যস্ত কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে ভালো কিছু করার সুযোগ পাব আশাকরি । মাথা খাটিয়ে কিছু হালকা কাজকর্ম করতে ভালোই লাগবে । অনেক বই পড়া হয়নি আমার, রবীন্দ্রনাথও পড়িনি সেভাবে – ভালো কিছু সাহিত্য পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি । নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে গানও শোনা হয়নি তেমন, মন ভালো করে দেওয়ার জন্য রবীন্দ্রসঙ্গীতই যথেষ্ট । আশা করব লেখালিখির জন্য সময়টা আরও একটু বেশী পাওয়া যাবে – ভ্রমণ না করলে তো ভ্রমণকাহিনী লেখা যাবেনা, তাই অন্য ধরণের লেখা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে একটু-আধটু । আর একটা জিনিস বেশ সিরিয়াসলি শুরু করতে চাই, ইন্টারনেট থেকে রেসিপি খুঁজে দেশ-বিদেশের পদ রান্না, অপরের জন্য রান্না করতে আমার অবশ্য বেশ ভালোই লাগে ।

সবচেয়ে বড় কথা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিটা আমার বজায় থাকে যেন, মনোভাব থাকে অসূয়া মুক্ত… পরমপিতার কাছে প্রার্থনা জানাই সবার কাছে যেন অপ্রয়োজনীয় না হয়ে যাই…

Delhi & Mumbai – A Tale of Two Cities

Having lived in ‘Dilwalon ka Shahar’ for nearly 28 years of my life, I deserve to assess Delhi’s true colours to some extent. The city has brought me in close contact with eminent personalities, given me great professional opportunities to perform with matching accolades, sent me to far-flung corners of this great country and distant shores of the world on work. Also, the major part of my stay in a gated green enclave of South Delhi has squarely added to my family’s creature comforts. The city has greatly enabled my kids find the moorings in their lives. Thank you, Delhi, you have helped me live up to my dreams!

With my first exposure to Mumbai way back in 1978 while on an industrial training assignment at Thane, living in the farthest hostel (# 4) at IIT Bombay, walking down nearly 2 Kms. at night for dinner outside the campus and braving the menacing Mumbai monsoon for around a month had left not so pleasant impression about the ‘Maximum City’… Coupled with the horror stories of the city’s housing, people making do with a 300 sq. ft. cubby-hole in remote Bhayandar and beyond had rather pushed Mumbai way down in my list of favourable cities. And I always shuddered to relocate myself to pursue my professional career in the city.

As my dear wife was transferred to Mumbai early this year, during my several trips to the city from the airport via Western Expressway onto the beautiful Bandra-Worli sealink, through Worli Seaface – Haji Ali – Peddar Road – Kemp’s Corner – Nepean Sea Road into the leafy neighbourhood of Malabar Hills, I rediscovered the city. In a home, where one is woken up by chirping of the birds, one can enjoy well cared for public spaces close by and can be part of cultural hub of the city, it’s SoBo (South Bombay for the uninitiated) at its best!

Mumbaikars treat Delhi-ites with utter disdain … to them we are a bunch of fat-headed corrupt guys, adept at hurling chaste abuses and pouncing on any girl on the street! Delhi-ites are only known by their fathers and everything works here by pulling the strings. People in Delhi deserve far less but enjoy much more bordering on a sense of entitlement. Mumbai, which contributes maximum to the national kitty in terms of taxes, gets a step-motherly treatment from the powers that be. And what do the Delhi-ites think about Mumbai? They don’t think much; they’re too busy with their own idiosyncrasies…

Let me attempt a little unbiased evaluation of the pluses and minuses of both the cities.

The most unfavourable aspect of Delhi – the city has been too elitist and class-conscious. Delhi-ites love to flaunt their big houses, flashy cars, fashionable farm-houses. The legacy runs supreme in terms of family, positions and proximity to power. And throwing of names becomes an obsession among people. Almost everyone’s on the ‘Do you know who I am?’ mode. It’s probably the only city, where if someone is stopped by traffic police for some violations, he immediately resorts to his cell phone for stirring up his contacts in the higher-ups. If you reach a five-star hotel in Delhi in an autorickshaw, the security tends to simply look through you. The other day I travelled with my wife to Taj Mahal Hotel in Mumbai in a black & yellow taxi with rain-soaked umbrellas in our hands, we were received with equal courtesy as extended to the hordes disembarking from their Mercedes and Jaguars…In the swanky and artsy terminal T2 of Mumbai, one can easily queue up for an autorickshaw to travel to the suburbs. In case of Delhi’s T3, autorickshaws are debarred to enter three-kilometre radius of the airport. To add to its woes, Delhi’s class is complemented by the crass – the city is hemmed in by Haryana on three sides and by UP on its east. And very unfortunately, gentry from the neighbouring states are not so well known for their sobriety!

Mumbai certainly stands tall in people’s attitude and behaviour. Even after travelling long distances in a packed local train, suffering from a not so agreeable muggy climate and infamous traffic snarls on the city’s roads, the denizens still display a friendly demeanour… they are amicable, patient and helpful in most of the times. One’s work gets done in banks, post offices and such places without any contacts or other considerations. I have spoken to many commoners on the street just asking for directions, struck up a conversation with the drivers of Uber and black & yellow taxis and I always had healthy interactions even with the folks coming from the hinterlands of cow-belt – the city does have a sobering effect on its people.

Where Delhi scores over Mumbai, that’s for its wonderful archaeology and still very enviable public spaces. The Qutub Minar complex, tombs of Humayun and Safdarjung and the relics of Hauz Khas very much within the city’s precincts can transport one through the annuls of history dating back to 700-800 years. And hugely sprawling spaces of Lodhi Gardens, Nehru Park, Garden of Five Senses, India Gate… are truly blissful for families to enjoy their outings and picnics. While Marine Drive can easily be ranked the best and the most beautiful road in the country, the city’s public spaces such as Girgaum or Dadar Chowpatty and Juhu beach will score low compared to Delhi’s assets. Add to that the roads of Delhi, where one can still drive with pleasure in many stretches. While Delhi is being castigated for its pollution, it’s still the greenest city in the country!

People do talk about the professionalism in Mumbai… folks out there know their jobs, do them well and deliver on time. They are sincere and duty bound, if they commit something, one can rest assured for its completion. The work culture is enviable even in Govt. offices. Delhi scores really low on this count – lofty promises are made only to be broken later, commitments are not honoured and results are never delivered as desired almost terming the people as humbugs. The deep-rooted ‘Babu’ culture of the capital and feudal system still prevailing in the states adjoining the city may be blamed for this. But fortunately, it’s changing and changing for the better. The presence of top-notch multinationals, banks & financial institutions and thriving IT & ITES industry in the new growth centres like Gurgaon (more politically correct, Gurugram) and Noida are all set to change the work-culture landscape of Delhi.

Yes, Delhi scores terribly poor in its attitude to ladies vis-à-vis Mumbai. So much so that almost every parent gets worried if his/her daughter is returning a little late to her home. Again the feudal mentality of the people goes a long way in shaping this behavioural anomaly. Mumbai does offer a much healthier, freer and friendlier space for the girls to survive and thrive. But it’s noteworthy that the best girls’ colleges of the country namely, Miranda House and Lady Sri Ram College are located in Delhi. The city has a dedicated women’s university for technology and a medical college. While a large number of lady graduates from the city routinely crack highly competitive civil services and other examinations, many of them get selected in top business schools of the country to reach upper echelons of the society. Against much adversity, the girls from Delhi prove their worth in all the walks of life and I’m really proud of their achievements.

Delhi wins hands down against Mumbai in one major aspect of life – the education, the infrastructure and the quality of which can certainly be termed the very best in the country. Apart from highly revered institutions such as St. Stephens, Hindu College, Sri Ram College of Commerce etc., University of Delhi and JNU are like jewels in the crown of country’s educational system. And newer entrants such as Ashoka University, OP Jindal Global University etc. from the neighbourhood have only complemented the system. With a string of other specialized and very reputed institutions such as IIT Delhi, AIIMS, Delhi School of Economics, Faculty of Management Studies, NSIT, NIFT, Indian Institute of Foreign Trade (IIFT), Indian Statistical Institute (ISI), School of Planning & Architecture (SPA), IIIT… Delhi ranks ten notches above Mumbai. The graduates from these prestigious schools are recruited at top dollar salaries and regularly offered admissions in Ivy League and well known British universities.

The last and another important parameter: readership of books. Contrary to its image, Delhi takes its reading quite seriously with its iconic bookshops heavily patronized by the seekers of knowledge and literary escapades. With the burgeoning popularity of annual World Book Fair and presence of a good number of high-quality publishing houses, the undercurrent of intellectualism is palpable in Delhi. That is ably supported by a wide base of scholarship and a large number of ‘Think Tanks’ from the city researching on society, polity and economics. Several Delhi based personalities regularly contribute erudite articles on arts & literature, foreign policies, governance…in the reputed national dailies of substance.

I will end my narrative with a personal anecdote. In an event organized by the IIT Kharagpur Alumni Association, we were enthralled by the guest speaker, Mr Gurcharan Das, an alumnus of Harvard University, former Board member of Procter & Gamble global and an eminent author. On spending his entire career in the commercial capital of the country, he has relocated himself to Delhi for the past 15 years or so. After his talk as he was leaving the venue, I had escorted him to the hotel entrance for seeing him off. To my apparently innocent question of trying to find the reason for his relocation to Delhi, he immediately replied, ‘Oh, after all, I’m an author and a commentator. Mumbai is no place for such persons’.

I rest my case…

পরিতোষের পৃথিবী

পরিতোষবাবু একা মানুষ, প্রায় নিজেকে নিয়েই থাকেন তিনি । ডালহাউসি পাড়ায় এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হেড অফিসে তিনি বছর দুই আগে তাঁর সেকশানের বড়বাবু হয়েছেন, রিটায়ারমেন্টের আগে এটাই অবশ্য শেষ প্রমোশন – তা মাইনেপত্র, বোনাস এসব মিলিয়ে উপার্জন তাঁর একার জন্য যথেষ্ট । বাহুল্যবর্জিত তাঁর জীবন, শাক চচ্চড়ি আর মাছের ঝোল-ভাতেই পরিতৃপ্ত পরিতোষবাবু, তবে সপ্তাহান্তে পেগ দুয়েক হুইস্কি তাঁর গতানুগতিক জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে যেন ! তাঁর আর এক বিলাসিতা মাসের প্রথমে বাড়ি ফেরার সময় রাসবিহারীর মোড়ের মিষ্টির দোকানে এক ভাঁড় রাবড়ি সেবন । এই পঞ্চান্ন বছর বয়স অবধি কোনওদিন রেসের মাঠমুখো হননি তিনি আর নারীসঙ্গের অভাবটাও বিশেষ বোধ হয়নি তাঁর । এমনকি কম্প্যাশনেট গ্রাউন্ডে তাঁরই সেকশানে চাকরি নিয়ে আসা বছর পঁয়তাল্লিশের বিধবা ইলা চক্রবর্তী তাঁর প্রতি ছায়াঘন চোখে তাকালেও পরিতোষবাবু বেশ উচিত গাম্ভীর্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করেছেন পরিস্থিতির সঙ্গে । তবে কিনা অফিসের ছেলে-ছোকরার দল আড়ালে তাঁকে কিপটে বলে নিন্দে করে । বলে ইলাদি শত চেষ্টা করেও সফল হবেনা, পরিতোষবাবু মোটেই টলবেননা, পা হড়কালে অনেক খরচা হয়ে যাবে যে !

যে যাই বলুক পরিতোষবাবু মোটামুটি সুখী পুরুষ – রামনগর হাইস্কুল তারপর কাঁথি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছিলেন পরিতোষ, তাঁর স্কুল-কলেজের বন্ধু-বান্ধব সব গ্রামাঞ্চলেই থেকে গেছে আর কলকাতা শহরে বিশ্বাস করে নতুন বন্ধু করে উঠতে পারেননি তিনি । তাতে কিছু যায় আসেনা তাঁর, একার পৃথিবীটা প্রতিদিনই এক অচেনা রূপ খুলে ধরে তাঁর সামনে – সন্ধ্যায় টিভিতে ডিসকভারি ও ট্র্যাভেল চ্যানেল, ছুটিছাটার দিনে গড়িয়াহাটের মোড় থেকে কিনে আনা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের পুরানো সংখ্যা আর সাত সকালে খুঁটিয়ে আনন্দবাজার পড়া, এসব খুচরো আনন্দ নিয়ে ভালোই দিন কেটে যায় পরিতোষবাবুর ।

তবে সঙ্গী তাঁর আছে বটে একজন – অনেক দিনের বিশ্বস্ত পবন, পরিতোষবাবুর সঙ্গেই থাকে সে; আদতে বালেশ্বরের লোক, তারও গ্রামদেশে কেউ আর বেঁচে নেই । পরিতোষবাবুই এখন তার ধ্যানজ্ঞান, সর্বক্ষণই তাঁকে আগলে রাখে সে । বহুবছরের সান্নিধ্যের ফলে মনিব-নফরের সম্পর্কটা বেশ একটা অম্লমধুর কাকা-ভাইপো মার্কা সম্পর্কে দাঁড়িয়েছে যেখানে ভাইপোই যেন অভিভাবক আর কাকাবাবুও নিজের মনে হেসে মেনে নেন এ উল্টোপুরাণ !

রবিবার দিনটা নিজেকে কেমন রাজা রাজা মনে হয় পরিতোষবাবুর – শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর নিয়মমাফিক হুইস্কিপান; রবিবার একটু দেরী করে ঘুম থেকে উঠে লুচি আর আলুর তরকারি দিয়ে প্রাতরাশ তারপর হাতে দু’টো থলি ঝুলিয়ে বাজারে বেরোন পরিতোষবাবু, সারা সপ্তাহের বাজারটা সেরে ফেলেন একদিনেই । আনন্দবাজারটা আদ্যন্ত পড়ে বেলা সাড়ে বারোটা বাজলে পবনের তাড়াতে বাথরুমে ঢোকেন তিনি । একটা নাগাদ পবন তাঁর খাবার থালা সাজিয়ে দেয় – বিশেষ কিছুই নয়, সাধারণ লাউছেঁচকি কিংবা শুক্তো আর গুলে মাছের ঝাল পবনের হাতের গুণে অসামান্য হয়ে দাঁড়ায় । এরপর এক অতি সুখ উদ্রেককারী ঘন্টা দু’য়েকের দিবানিদ্রা !

বছরদশেক আগে চেতলায় সাকুল্যে আড়াই কামরার এই একতলা বাড়িটা সস্তায় ভাড়া পেয়ে যান পরিতোষবাবু – মাঝারি সাইজের একটা শোবার ঘর, পবনের একটা ছোট ঘর, বেশ বড় বসার ঘর ও রান্নাঘর, বাথরুম নিয়ে বাড়িটা পরিতোষবাবুর বিশেষ পছন্দ, পাশেই একটা কর্পোরেশনের মাঠ, আর মাঠ পেরিয়ে বাচ্চাদের এক স্কুল, তা সে স্কুল বসে সকালে ঘন্টা চারেকের জন্য । প্রতিবেশীদের বাড়ি দূরে দূরে, তাই নেই কোনও প্রতিবেশীর গায়ে পড়া ঔৎসুক্য । গড়ে ওঠে নিরালায় পরিতোষবাবু ও পবনের একান্ত পৃথিবী…

গত রবিবার বিকেলে গড়িয়াহাটের মোড়ে একটা পুরানো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে চোখটা আটকে গেল পরিতোষবাবুর, ‘Mystery of the Universe’ । দরদাম করে পঞ্চাশ টাকায় ম্যাগাজিনটা কিনেও ফেললেন তিনি । বাড়ি পৌঁছে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে গোগ্রাসে যেন গিলতে থাকেন  লেখাগুলি – পরিতোষবাবুর চোখের সামনে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য ! এতদিন তাঁর জ্ঞান সীমিত ছিল আমাদের নবগ্রহে, তার বাইরে ব্রহ্মাণ্ডের অনেক কিছুই ছিল তাঁর অজানা । পরিতোষবাবু পড়লেন গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, তারকা সমূহ নিয়ে কয়েক যোজন লক্ষ মাইল জুড়ে আমাদের এই আকাশগঙ্গা (Galaxy) যার নাম ছায়াপথ বা Milky Way – এরকম  অসংখ্য আকাশগঙ্গা রয়েছে আমাদের ব্রহ্মাণ্ডে, প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে যার সৃষ্টির ব্যাখ্যা করেছে বিজ্ঞান ‘Big Bang’ থিয়োরির মাধ্যমে । ব্রহ্মাণ্ডের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে পেরোতে হবে প্রায় ৫০,০০০ কোটি আলোকবর্ষের পথ (তাঁর মনে পড়ে গেল স্কুলের বিজ্ঞান বইতে পড়েছিলেন যে আলো এক সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল পথ অতিক্রম করে) । ব্রহ্মাণ্ডের এই অসীম ব্যাপ্তির কথা জেনে হতবাক হয়ে গেলেন পরিতোষবাবু, বিপুলা এ বিশ্বের পরিধির কাছে নিজেকে বড়ই তুচ্ছ বলে মনে হতে লাগলো তাঁর । ছাদে উঠে বেশ কিছুক্ষণ ধরে একমনে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি; গ্রহাদি ও নক্ষত্র মন্ডলকে নতুন করে আবিষ্কার করলেন এই পরিণত বয়সে ।

সোমবার অফিস থেকে ফেরার পথে একটা অদ্ভুত কাজ করে ফেললেন পরিতোষবাবু – পার্ক স্ট্রীটে এক অ্যান্টিক ও কিউরিও’র দোকানে গিয়ে একটা টেলিস্কোপ দেখতে চাইলেন তিনি । দোকানের মালিক মিঃ লালওয়ানি জানালে তার কাছে ৪” ব্যাস ও ৭৫ গুণ ম্যাগনিফিকেশন সম্পন্ন পেতলের একটি টেলিস্কোপ আছে, সেটি ব্যবহৃত হত কোনও এক জাহাজে, গুজরাতে পুরানো জাহাজটি ভাঙা হ’লে বহু হাত ঘুরে টেলিস্কোপটি পৌঁছয় তার দোকানে । জীবনে প্রথম শখ করে কড়কড়ে ৫,০০০ টাকা খরচ করে টেলিস্কোপটা দুম করে কিনেই ফেললেন পরিতোষবাবু । ট্যাক্সি চেপে বাড়ি ফিরে সটান ছাদে উঠে ট্রাইপডে টেলিস্কোপটি বসিয়ে তাতে চোখ লাগিয়ে তিনি তাজ্জব – একি শনির বলয় একেবারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আর বৃহস্পতির চারধারে মেঘের আবরণ ! শুরু হল পরিতোষবাবুর নতুন প্রেম জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে…

রোজই  অফিস থেকে ফিরে এসে ছাদে চলে যান পরিতোষবাবু, সাতটা থেকে রাত সাড়ে ন’টা অবধি টেলিস্কোপে মহাকাশ পরিদর্শন করেন তিনি; গ্রহ-তারা জগতের নেশায় বুঁদ হয়ে যান যেন, অতঃপর পবনের চেঁচামেচিতে নীচে নামতে বাধ্য হ’ন খাওয়াদাওয়া সারতে । টেলিস্কোপে রাতের আকাশ চষে ফেলার পাশাপাশি পরিতোষবাবু পড়তে শুরু করলেন মহাকাশ জগত সম্বন্ধে । বেশ কিছু বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের বই কিনে ফেললেন তিনি, জানতে পারলেন Unidentified Flying Object বা ইউএফও’র কথা । ১৯৪৭ সাল থেকে নিয়মিত ভাবে পৃথিবীর নানা জায়গায় দেখা গেছে ইউএফও – বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স ও সুইডেন সরকার এবং তাদের সামরিক বিভাগ অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে ইউএফও নিয়ে । অনেক রিপোর্টই জনসমক্ষে আসেনি, কিন্তু কেউই জোর গলায় ইউএফও’র সম্ভবনা উড়িয়েও দিতে পারে নি ।  ব্রহ্মাণ্ডে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা এ নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছে দ্বিমত, অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন মানুষের চেয়েও মেধায় উৎকৃষ্ট প্রাণী আছে হয়ত দূরদূরান্তের কোনও গ্রহে । মহাকাশ থেকে ভেসে আসা কিছু অদ্ভুত সিগন্যাল এই থিয়োরিকে সমর্থন যোগায় । চীনদেশে ৫০০ মিটার ব্যাসের এক বিশালাকায় রেডিও টেলিস্কোপ বসানো হয়েছে ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের পাঠানো সিগন্যাল রেকর্ড করে অনুধাবন করার জন্য – মানুষের চেয়ে উন্নত মেধার প্রাণীদের খোঁজে সারা বিশ্ব খুবই তৎপর ।

শনিবার সন্ধ্যায় ঘন্টা তিনেক ধরে টেলিস্কোপে পূর্ণিমার চাঁদ পর্যবেক্ষণ করে নীচে নামলেন পরিতোষবাবু, তারপর তাঁর নিয়মমাফিক সন্ধ্যাহ্নিক দুই পেগ হুইস্কি দু পিস মাছভাজা দিয়ে ।  সেদিন রাতের মেনুতে পাটশাক দিয়ে ডাল, আলু-ফুলকপির ডালনা ও কাজলি মাছের ঝাল – আহা ! মনে মনে পবনের জয়জয়কার করলেন পরিতোষবাবু । মহাকাশ নিয়ে লেখা একটা নতুন সায়েন্স ফিকশনের বই নিয়ে আরামকেদারায় বসলেন তিনি, Inter-galactic Travel-এর টান টান উত্তেজনার কাহিনী । প্রথম দু’টো পরিচ্ছেদ শেষ করতেই দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে রাত বারোটা বাজল, ফাঁকা জায়গা, চারদিক বেশ নিঝুম; বইটা রেখে দিয়ে ঘরের আলোটা নিভিয়ে শুতে যাবেন পরিতোষবাবু – ওমা, এ কি কান্ড !  বাইরে থেকে এক তীব্র সার্চ লাইটের আলো তাঁর ঘরের মধ্যে ঘুরতে লাগলো ।  পরিতোষবাবু জানালায় গিয়ে দাঁড়ালেন – দেখলেন এক বিরাট গোলাকৃতি বস্তু ওই জোরালো আলো ফেলে ধীরে ধীরে নেমে আসছে পাশের মাঠে । সত্যি সত্যি ইউএফও দেখছেন নাকি পরিতোষবাবু ? ব্যাপারটা একটু ভালো করে বুঝতে পবনকে না ডেকে খুব সন্তর্পণে বাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন তিনি ।

এক রূপোলী ধাতব গোলক, ব্যাস তার কমপক্ষে ১২ ফিট – মাটির কাছাকাছি আসতেই গোলকের নীচ থেকে তিনটে পায়া বেরিয়ে এল, সে পায়ায় ভর দিয়ে গোলক মাঠে দাঁড়ালো আর তার সামনের এক প্যানেল খুলে গেল নিঃশব্দে ।  কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনটি অদ্ভুত চেহারার জীব গোলকটি থেকে লাফিয়ে নেমে এল আর তাঁকে দেখতে পেয়েই তাঁর দিকে এগোল । কিম্ভুত ওই জীবগুলির দেহ বলতে এক চকচকে ধাতব বাক্স আর বাক্সের নীচে তিনটে পা নিয়ে বেশ জোরেই হেঁটে আসছে তারা । হাতের জায়গায় দু’টো স্প্রিং-এর মত জিনিস ঝুলছে; মুখ, চোখ, নাক, কান নেই কিছুই – বাক্সের ওপরের দিকে লাল, নীল, বেগুনী সব আলো জ্বলে উঠছে । পরিতোষবাবুর তো চোখ যাকে বলে ছানাবড়া !

তিনজনের মধ্যে লীডার গোছের একজন এগিয়ে এসে পরিতোষবাবুকে উদ্দ্যেশ্য করে কিছু অদ্ভুত আওয়াজ করলো, তিনি পরিস্কার বুঝতে পারলেন সে কি বলছে – ওদের ভাষায় কথা বললে কি হবে, সে কথা তাৎক্ষণিক বাংলায় তর্জমা হয়ে যাচ্ছে ! এ যে মানুষের চেয়ে প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে । পরিতোষবাবু শুনলেন, ‘কি হে, ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না? আমরা কিন্তু সত্যিই বহুদূর থেকে আসছি, আমাদের গ্রহটা পৃথিবী থেকে ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে । অবশ্য আমাদের এখানে আসতে সময় লেগেছে তোমাদের হিসেবে মাত্র ১৫ দিন । দেখবে নাকি আমরা কোথা থেকে এসেছি?’ এই বলে সে স্প্রিং হাতটি তার বুকের কাছে ছোঁয়ালে আর তার বুকে ফুটে উঠলো টেলিভিশনের মত সব ছবি । পরিতোষবাবু দেখলেন মরুভূমির মত এক দেশ, শ্যামলিমার ছিটেফোঁটা নেই কোথাও, ঝাঁ চকচকে সব বিশালাকায় বাড়ি, চওড়া রাস্তা – সেসব রাস্তা দিয়ে ছোট-বড় অনেক ধাতব গোলক দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে রাস্তার একটু ওপরে শূন্যে ভাসতে ভাসতে । আরও দেখলেন নানা ল্যাবরেটরিতে ঐসব তিনপেয়ে বাক্সধারী জীব কাজ করছে অত্যন্ত উন্নত সব প্রযুক্তি নিয়ে ! ছবি দেখানো বন্ধ করে দিয়ে তিনপেয়ে লীডার বললো, ‘চলো, তোমাকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাই, আমাদের রাজা খুব খুশী হবে তোমার মত এরকম অদ্ভুত জীব দেখলে’। পরিতোষবাবু সভয়ে বলে ঊঠলেন, ‘আরে, না না, আমি এই পৃথিবীতেই খুব ভালো আছি, এই বয়সে নতুন কোথাও গিয়ে কাজ নেই আমার’ ।  লীডার বলে, ‘নিজের ইচ্ছেয় না গেলে, আমাদের জোর করতে হবে’ । সঙ্গে সঙ্গে তার দুই শাগরেদ চারটে স্প্রিং-এর হাত দিয়ে সাড়াঁশীর মত চেপে ধরলে পরিতোষবাবুকে, তিনি পবন, পবন বলে সজোরে চিৎকার করে উঠলেন !

বেলা প্রায় আটটা, বাইরে চড়া রোদ্দুর – পবন পরিতোষবাবুকে জোরে নাড়া দিয়ে বলছে, ‘কতদিন বলেছি ঐসব ছাইপাঁশ গিলবেননি, তা আমার কথা শুনবে কেন ? কি দুঃস্বপ্ন দেখছিলে, এরকম গোঁ গোঁ করে চেঁচাচ্ছো’?



A Moment of Pride…

Way back in 1993 I was driving my first car, a second hand Premier Padmini, always known as Fiat in Delhi’s parlance. Like its many cousins, my car also demanded routine servicing for its upkeep apart from frequent trips to the mechanic for some repair or the other. On a Friday morning, I took the car to Byford, an authorized service centre for Fiat near my office and dumped it with them for a regular service.

Byford while taking up routine service would change the components, whatever deemed necessary by them without seeking any consent from the owner. Around 5.30 pm I went to collect my car and the total bill raised for the works was Rs.480/- or so, which included replacement of a few minor components. I was carrying about Rs.300/-, which was sufficient for a routine service those days. Those primitive (!) days without credit cards or ATMs, being cashless would consign one to utter penury! It was after the bank business hours and I was at a complete loss for failing to meet the magic figure. I had promised a trip to Sarojini Nagar on Saturday morning for shopping to my dear wife and mom-in-law, who was visiting us then… I was aghast with Byford and its smart practices!

The accounts clerk told me, ‘Please meet our Director-Finance, only he can bail you out of this’. I ambled across to the room of Director-Finance with a lot of trepidation – I discovered an elderly bespectacled and elegantly dressed Punjabi gentleman in his seventies poring over some papers. I narrated my predicament with all sincerity and as I had stopped for catching my breath, I heard, ‘What did you say your name? Is it Mr Biswas? How can I not trust one who is called Biswas?’ That was a common joke in North India in my conjecture. But he continued, ‘You were not even born those days young man, I was a student of DAV College, Lahore. And Professor Biswas taught us English literature…I would never forget the lessons of Shakespeare by him. He was the best teacher I have ever had in my life! So anything for Mr Biswas…please take your car and whenever you feel comfortable, come back and make the payment.’ With these words, he happily signed on my bill allowing deferred payment!

So much love for a teacher! A rare moment to titillate my Bengali ego…thanks to my scholarly namesake, my family could enjoy the weekend outing as promised to them. And it goes without saying that as Byford had opened its shutters next Monday morning, I promptly paid the balance amount.

[Based on a true incident]